কেন মূর্তিপূজা মৌলবাদের প্রতিষেধক

আমাকে ক্ষমা করো, ও শিব, আমার তিনটি পাপ!

আমি কাশিতে তীর্থযাত্রায় এসেছিলাম, এ ভূলে যে তুমি সর্বত্র বিরাজমান।

তোমার সম্পর্কে চিন্তা করে, এ ভূলে যে তুমি চিন্তা-ভাবনার ঊর্ধ্বে।

তোমার নিকট কথার মাধ্যমে প্রার্থনা করে, এ ভূলে যে তুমি কথার অতীত।

আদি শঙ্করাচার্য

ইহুদি ধর্ম, খ্রিস্টান ধর্ম এবং ইসলাম ধর্মের বিধিবিধান অনুসারে “খোদিত মূর্তি” নির্মান নিষিদ্ধ করা হয় এজন্য যে “সৃষ্টিকর্তা” ঈশ্বর “তার” সৃষ্টি হতে গুণাবলীতে আলাদা বা স্বতন্ত্র। সকল “পূজা বা প্রার্থনা” সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে নিবেদিত; সৃষ্টিকর্তা ব্যতিত অন্য যে কোনো কিছুর পূজা করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। যা মূর্তিপূজার বিরোধিতা ঘোষণা করে। সোজাসুজিভাবে বললে, বামিয়ান বুদ্ধের ধ্বংসাত্মক ঘটনা কোনো একটি পৃথক ধ্বংসাত্মক ঘটনা ছিল না, বরং তা ছিল তালিবান পরিচালিত আফগানিস্তানের মুসলিম সরকারের সুপ্রীম কোর্ট অনুমোদনকৃত একটি ঘটনা। মূর্তিপূজাকে দেখা হয়েছে একটি আশঙ্কা হিসাবে এবং স্থানীয়দের মধ্যে “মূর্তিপূজার” পূনঃপ্রচলনের আশঙ্কা হতে মুসলিম আদালত বামিয়ানের ধ্বংসের ব্যাপারে আইন অনুমোদন করে। সকল আব্রাহামিক মৌলবাদীরা মূর্তিপূজায় ফিরে যাওয়ার বিরুদ্ধে সর্বদাই সংগ্রামে লিপ্ত। দূর্ভাগ্যজনকভাবে, এই মৌলবাদিতা এক অর্থে যে বস্তুকে ভাঙার জন্য অনুসন্ধান করে থাকে, তা হতে নিকৃষ্ট বস্তু নিজেই তৈরি করে থাকে।

“কোনো প্রতিমা থাকা নয়” এ ধারণাটি মানুষের মনস্তত্ত্বের বিপরীতে যায় এবং তা মানুষের দেহত্বত্তের মাধ্যমে ঈশ্বরকে অনুভব করা যাবে না, এ ধারণাকেই প্রকাশ করে। পূজনীয় বস্তু বলতে আসলে কি বোঝায় এবং পূজা করা বলতে কি বোঝায়? প্রচলিত ধর্মগুলোর বিধিবিধানগুলো দ্বারা পূজা বা আরাধনার প্রকৃত সংজ্ঞাকে অস্পস্ট করে তোলা হয়। যা কিছু আপনি পবিত্র জ্ঞান করেন, শ্রদ্ধা করেন তা বেদিতে স্থাপন করেন। তা সে মনের বেদিই হোক কিংবা মনের বাইরে সৃষ্ট বেদি। আর তার প্রতি আপনি অত্যন্ত মনোযোগী হন। আর তাই হচ্ছে আপনার পূজনীয় বস্তু। সে হিসাবে মনের আরাধনার বস্তু প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে।

যেমন তরুণরা তাদের কক্ষে রকস্টার এর পোস্টার রাখতে পারে। অনেক সময়ই এ সকল রকস্টারদের তরুণদের আইডল বলা হয়। আবার আপনি শচীন টেন্ডুলকার অথবা বেকহ্যাম এর পোস্টার সংরক্ষণ করতে পারেন, সে ক্ষেত্রে তারা হচ্ছে আপনার পূজনীয় জিনিস। অথবা আপনি আপনার ব্যবহৃত গাড়ির প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল। যদি কেউ তাতে সামান্য আঁচড়ও কাটে তবে আপনি অত্যন্ত দুঃখিত হন। সেক্ষেত্রে, আপনার নিকট আপনার গাড়ি হতে পারে আপনার আরাধনার বস্তু। এখন, আপনি আপনার পূজনীয় বস্তুর জন্য আলাদাভাবে বেদি তৈরি করতে পারেন অথবা নাও তৈরি করতে পারেন। তবে, ইতিমধ্যেই আপনি তা করেছেন আপনার মনের ভেতর তার বেদি তৈরি করার মাধ্যমে।  

সবচেয়ে শক্তিশালী আইডল বাহ্যিক আকৃতির নয়। বরং, তা হচ্ছে সে ধারণা যাকে মন  আঁকড়ে ধরে থাকে।

আপনার আইডল হচ্ছে তা যা আপনার মনের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। সবচেয়ে শক্তিশালী আইডল বাহ্যিক আকৃতির নয়। বরং, তা হচ্ছে সে ধারণা যাকে মন  আঁকড়ে ধরে থাকে। ধরুন আপনি একজন “ধর্মনিরপেক্ষ” কিংবা “নাস্তিক ব্যক্তি”। আপনার নিকট সম্পদ বা অর্থ হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বস্তু, যা আপনাকে সবসময় মোহাবিষ্ট করে রাখে। আপনি আপনার মনে কুবেরের চিত্র অঙ্কন করে থাকতে পারেন, যাকে বলা হয়ে থাকে ধন-সম্পদের দেবতা। আপনি কুবেরের আরাধনাও করতে পারেন। এটা একই জিনিস এই জন্য যে, আপনি ইতিমধ্যেই কুবেরকে আপনার মনে স্থান দিয়েছেন এবং সে হচ্ছে আপনার আরাধনার বস্তু। অথবা, অর্থের বদলে এটা হতে পারে কাম। সেক্ষেত্রে হয়তো কেউ কাম দেবতার পূজা করে, যাকে মনে করা হয় ইন্দ্রিয়ের সুখ প্রদানকারী দেবতা। এটা হচ্ছে শুধুমাত্র একটি দেওয়া নাম । অথবা আপনার আরাধনার বস্তু হচ্ছে আপনার কাজ। কিংবা এটা হতে পারে আপনার কারণ। ধর্মনিরপেক্ষতার-ধারণাও হতে পারে আপনার পূজনীয় বস্তু। এ সম্পর্কে কেউ যখন কোনো অপমানজনক কথা বলে, হয়তো আপনি খুব অপ্রস্তুত বোধ করেন। অথবা বিপ্লবের লাল পতাকা আপনার মনের আইডল। প্রতি সকালে আমেরিকার স্কুলের ছাত্র ছাত্রীরা আমেরিকার জাতীয় পতাকার প্রতি প্রণিপাত করে থাকে। এটি হচ্ছে তাদের পূজনীয় বস্তু। এ কারণেই একে পোড়ানো অথবা এর প্রতি অবমাননা একে পূজনীয় বস্তু হিসাবে লালনকারী ব্যক্তিবর্গের নিকট অত্যন্ত নিন্দনীয় ও গর্হিত কাজ। আর এ কারণেই আপনার নাস্তিকতা কিংবা ধর্মের প্রতি বিশ্বাস কোনটিই এক্ষেত্রে কাজে আসছে না। আর ঠিক একই কারণে আপনার অনুসরণকৃত পবিত্র ধর্মগ্রন্থে উল্লেখিত “তোমরা খোদিত মূর্তি বা প্রতিমা তৈরি করো না”, এ কথাটি অনেক ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হচ্ছে না।

 

এটা যথার্থই বলা যায় যে, আপনার পবিত্র গ্রন্থ আপনার নিকট পরম পূজনীয় বস্তু। শিখরা তাদের পবিত্র গ্রন্থকে বাতাস করে থাকে। এ গ্রন্থ কি আসলে খুব গরম অনুভব করছে? পাকিস্তানে ধর্মগ্রন্থের পাতা পুড়ানোর অভিযোগে এক মহিলাকে ধর্মগ্রন্থের প্রতি অবমাননার শাস্তি হিসাবে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়। এটা কি চরম মৌলবাদিতার বহিঃপ্রকাশ নয়? এটা মনের একধরনের অবস্থা, যা একজনকে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য করতে পারে। একজন মৌলবাদী হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যে তার ধর্মগ্রন্থকে তার আইডল হিসাবে গ্রহণ করেছে। যদি তারা এটা গভীরভাবে নিয়ে থাকে, তবে তারা একটা ধারণার ভেতর আবদ্ধ হয়ে পড়ে। ঐ বস্তুটি তাদের মনকে পরিচালনা করতে পারে এবং তাদেরকে তাদের নিজেদের হতে এবং নিজের মানবতা হতে বিচ্ছিন্ন করতে পারে। একইভাবে মিশনারীরা মানুষকে ধর্মান্তরিত করার ধারণার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ে, কেননা একটি গ্রন্থ তাদেরকে সকল জাতি হতে অনুগত শিষ্য তৈরি করতে নির্দেশ দিয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে তাদের এ কর্মকান্ড জাতিগত বিভেদও সৃষ্টি করে। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মূর্তিপূজা ও শিরকের কথা বলে ওয়াহাবী এবং আইএসআইএস এর ইন্ধনে মন্দির বা বেদি ধ্বংস করা হচ্ছে। কিন্তু বলা যেতে পারে যে শিরকের এ ধারণা এক অর্থে মনের অন্য আরেক ধরনের আইডল।

সকল আব্রাহামিক মৌলবাদীরা মূর্তিপূজায় ফিরে যাওয়ার বিরুদ্ধে সর্বদাই সংগ্রামে লিপ্ত। দূর্ভাগ্যজনকভাবে, এই মৌলবাদিতা এক অর্থে যে উপাস্য বস্তুকে ভাঙার জন্য অনুসন্ধান করে থাকে, তা হতে নিকৃষ্ট উপাস্য বস্তু নিজেই তৈরি করে থাকে।

এটা বলা যায় যে, আব্রাহামিক ধর্মগুলোর মূর্তিপূজার বিরোধিতা হচ্ছে এক ধরণের অজ্ঞানতা। কেননা, এ ধর্মাবলম্বী লোকদের নিকটও তাদের “পবিত্র গ্রন্থ” পরম পূজনীয় বস্তু। নিজেদের ধর্মগ্রন্থের প্রতি তাদের রয়েছে অকৃত্রিম আনুগত্য। মন সবসময়ই কিছু না কিছু আঁকড়ে ধরে থাকার চেষ্টা করে। একটিকে আঁকড়ে ধরতে না পারলে তা অন্যটির দিকে ধাবিত হয়। এ হচ্ছে মনের নিরন্তর অবস্থা। প্রতিমা ধ্বংসের কারন হচ্ছে মৌলবাদ কিংবা ভক্তদের মৌলবাদ। বিভিন্ন ইন্ডিক ধর্মাবলী যেমন- বৌদ্ধ, জৈন কিংবা হিন্দু অথবা অন্যান্যগুলোর ক্ষেত্রে এ কথা বলা যায় যে তারা প্রতিমা সংক্রান্ত্র চিত্র ব্যবহার করে থাকে। তবে কলোনিয়াল সময়ের স্কলারদের মাধ্যমে সে সময়ে আব্রাহামীয় “ধর্মের ছাঁচে” গড়ে তোলা শিখ ধর্মের কিছু ক্ষেত্রেও মূর্তিপূজার বিরোধিতা করা হয়। এক্ষেত্রেও একধরণের মৌলবাদিতা কাজ করেছে। এমনকি আর্য সমাজের কোনো কোনো ক্ষেত্রে মূর্তিপূজা প্রসঙ্গে উদারতা প্রকাশের ক্ষেত্রে মৌলবাদী মনোভাবের প্রকাশ পাওয়া যায়।

 

যে পর্যন্ত মানুষের মন পুরোপুরি মুক্ত, সবসময়ই এর পূজনীয় বস্তু থাকবে। আমরা সাধারণত ধারণার উপর ধারণা সাজিয়ে আমাদের জগৎ গড়ে তুলি। আলোকিত হওয়ার প্রকৃত অবস্থা হচ্ছে এ সকল পার্থিব ধারণা হতে মুক্তি লাভের মাধ্যমে সঠিক বাস্তবতার উপলব্ধি। কিন্তু খুব অল্প সংখ্যক মানুষই সেই স্তরে উপনীত হয়েছে, যেখানে সে সত্যিকারে পার্থিব ধারণা হতে মুক্তি লাভ করেছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা কোনো না কোনো বস্তুর প্রতি আকৃষ্ট। কোনও একটি জিনিসকে আমরা আমাদের জীবনে অনেক বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকি। যাকে আমরা আমাদের পরম পূজনীয় জিনিস হিসাবে অভিহিত করতে পারি।

বাস্তবিক অর্থে আপনার পবিত্র গ্রন্থ আপনার নিকট পরম পূজনীয় বস্তু।

ইন্ডিক ধর্মমত স্বীকার করে যে মানুষের মন যে কোনও কল্পিত মূর্তির ধারণার সাথে আবদ্ধ। এ জন্য মুক্তির প্রথম সোপান হচ্ছে যে, এ বন্ধনকে মেনে নেওয়া। মানস প্রতিমার প্রত্যাখ্যান হল মনের স্বাভাবিক ঝোঁক বা প্রবণতার অজ্ঞতাপূর্ণ প্রত্যাখ্যান। তাই যখন আপনি স্বীকার করে নেন যে মন যে কোনও কল্পিত মূর্তির ধারণার সাথে আবদ্ধ, তখন আপনি সচেতনভাবে বেছে নিতে পারেন যে কোনটি আপনার পূজনীয় বস্তু হবে। আপনার মনের মানসপটে রক্ষিত বা অঙ্কিত ছবি প্রায়ই আপনার বাইরের মূর্তির চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তবে বাইরের মূর্তি আমাদের মনের মূর্তিরই প্রতিফলন। আর বিভিন্ন সময়ে মুনি ঋষিরা আমাদেরকে এ মুরাৎ বা মূর্তিরই ধারণা দিয়ে গেছেন।

একটি মূর্তি, সোজাসুজিভাবে বললে একটি দৈব রূপ, যা বোঝায় মুরাৎ বা রূপ। কি এটাকে দৈব করে তোলে? সত্যিকার অর্থে তা হলো মনের মানস পটে প্রতিফলনের ফলস্বরূপ কল্পিত মূর্তি। একটি অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন মনের কল্পিত রূপ। অনেকটা সংগীতের গাঁথা মালার মত, যা শোনার মাধ্যমে মনের উপর বিশেষ প্রভাব পড়ে। এমন রূপ যা ভালবাসা, মমতা, সমবেদনা, জ্ঞান, বিজ্ঞতা, সাহস, শক্তি ইত্যাদি গুণাবলীকে মূর্ত করে তোলে। তবে একটি মূর্তি বা মূরাৎ কি শুধুমাত্রই সংগীত রচনাশৈলীর মতই একটি বিমূর্ত ভাস্কর্য? নাকি তা আরও কোনো গভীর অর্থ বহন করে? কি একে পবিত্র করে তোলে? তা হচ্ছে সেই সকল গুণাবলী, যা এটি মনের ভেতর জাগাতে সাহায্য করে। একইসাথে আমরা একে পবিত্র করে তুলি। আমরা একে পবিত্র করে তুলি আমাদের মনের পবিত্রতা এবং ভক্তির মাধ্যমে। আমরা একে স্থাপন করি সঠিক নিয়মে, আমরা একে সিক্ত করি মন্ত্র জপের মাধ্যমে। আমাদের মনোযোগ এবং আস্থার শক্তি দ্বারা আমরা একে সজ্জ্বিত করে তুলি। আমরা একে আরও উচ্চ মর্যাদায় নিয়ে যাই, বেদিতে এ রূপ স্থাপনের মাধ্যমে এবং তারপর আমারা এর সাথে সংযুক্ত হই পূজার বিভিন্ন আচার নিষ্ঠা পালনের মধ্য দিয়ে।

যখন আমরা পূজা করে থাকি, তখন আমরা সচেতনভাবে পাঁচটি বস্তু বা উপাদান ব্যবহার করে থাকি। এগলো হল যথাক্রমে ভূমি, বায়ু, জল, আগুন এবং মহাশূন্য। এসকল উপাদান আমাদেরকে মূল কার্যের সাথে সম্পৃক্ত করে। এভাবে মনকে একটিমাত্র ধারণার মাঝে আবদ্ধ না রেখে পূজা আমাদের মনে এ অনুভূতিকে বর্তমান সময়ের সাথে সংযুক্ত করে। আমরা এ উপাদানগুলোর মাধ্যমে পরমাত্মার পূজা করি এবং তা আমাদেরকে মানুষ হতে সাহায্য করে এবং জাগতিক বিশ্বের সাথে আমাদেরকে সংযুক্ত করে। একটি মূর্তি এর অনুসারীদের অন্যদের প্রতিমা ধ্বংস করতে কিংবা অবিশ্বাসী, ধর্মহীন কিংবা কাফির ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করতে প্ররোচিত করে না। বরং তার জন্য প্রয়োজন বাণী। আর মৌলবাদীরা এ বাণী আঁকড়ে ধরে থাকে। আইএসআইএস হতে শুরু করে আল কায়েদা কিংবা দক্ষিনস্থ ব্যাপটিস্ট এসকল মৌলবাদী সংগ্রামের ক্ষেত্রে, এদের সবাই তাদের বাণীর ব্যাখ্যা করার মাধ্যমে অন্যদেরকে আহ্বান জানিয়ে থাকে।   

ইন্ডিক ধর্মমত স্বীকার করে যে আমাদের মন যে কোনও কল্পিত মূর্তির ধারণার সাথে আবদ্ধ। এ জন্য মুক্তির প্রথম সোপান হচ্ছে যে, এ বন্ধনকে মেনে নেওয়া। মানস প্রতিমার প্রত্যাখ্যান হল মনের স্বাভাবিক ঝোঁক বা প্রবণতার অজ্ঞতাপূর্ণ প্রত্যাখ্যান।   

যখন কারো মন যথার্থই মুক্ত, তখন তার কোনো মানস প্রতিমার প্রয়োজন নেই। কিন্তু কতজন ব্যক্তি ঐ স্তরে পৌঁছেছে? অন্তত তারা নয়, যারা প্রতিমার প্রতি অবজ্ঞা করে। যখন পর্যন্ত একজন ব্যক্তি আলোকপ্রাপ্ত না হয়, তখন পর্যন্ত তার মানস প্রতিমার প্রয়োজন রয়েছে। আর যখন একজন ব্যক্তি আলোকপ্রাপ্ত হয়, তখন তার অন্য কোনো আইডলের প্রয়োজন নেই। প্রতিমাসমূহ, বাইরের হোক আর মনেরই হোক, তা লীলার অংশ এবং একজন তা অবলোকন এবং উপভোগ করতে পারে। মূর্তি বা প্রতিমা ভাঙা মূলত অজ্ঞতারই নামান্তর। আক্ষরিক অর্থে একজনের মনের ভেতরের মানস প্রতিমাকে আমরা ভাঙতে বা ধ্বংস করতে পারি না।

উৎস: IndiaFacts | http://indiafacts.org/murti-puja-antidote-fundamentalism/



Categories: Miscellaneous

Leave a Reply

%d bloggers like this: